বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল নুয়াইমির। উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পেশাগত উন্নয়ন, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠককালে বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব স্টাফ বাংলাদেশের সেনাবহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বাহরাইন থেকে আসা অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার এই সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিরক্ষা কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, অতীতে বিভিন্ন সময় দেশের সামরিক ও বেসামরিক খাতে নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নতুন গতি এসেছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সামরিক সমঝোতা সঠিকভাবে মূল্যায়িত না হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব ও সমতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় বাহরাইনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর এই পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা ঐতিহ্যগত শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একে অপরের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ কেবল দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রটিকেও আরও বেশি প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক