পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এই পতনের পেছনে বন্দরটির নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ ভিড়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই সংখ্যা কমে মাত্র ২৯টিতে নেমে এসেছে।
বন্দরের বর্তমান এই বেহাল দশার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেলের তীব্র নাব্যতা সংকট, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সড়ক যোগাযোগের অনুন্নত অবস্থা। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলেও দেশের সামুদ্রিক বন্দরগুলোর অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাবনাময় এই বন্দরটি আজ মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, দ্রুত যদি চ্যানেলের ড্রেজিং করে পর্যাপ্ত গভীরতা নিশ্চিত করা না হয় এবং শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা না হয়, তবে আমদানিকারক ও বিদেশি শিপিং লাইনগুলো এই বন্দর ব্যবহারে সম্পূর্ণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক