চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এই ফলাফলের সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ। কিন্তু এবার পাস করেছে মাত্র সাড়ে ছয় লাখের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। এর ফলে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রায় সাড়ে আট লাখ আসন ফাঁকা রয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংকট চরম আকার ধারণ করতে পারে। গত কয়েক বছর ধরে পাসের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় আসন সংকট নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা দেওয়ায় নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা যায় এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নানা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের নেপথ্যে করোনাকালীন শিক্ষণ ঘাটতি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক নানা জটিলতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। তবে সার্বিক এই পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি যৌথভাবে কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক