ভোলার বোরহানউদ্দিনে অসহায়, দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যত্র নেওয়ার সময় জব্দের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গরিবের হক এই চাল কীভাবে এবং কার ইন্ধনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন কাজ করার সাহস না পায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩৩ বস্তা চাল আটক করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পৌঁছায় মাত্র ২৪ বস্তা চাল। বাকি ৯ বস্তা চাল কোথায় গেল এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের এমন অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চাল আটকের পর গোডাউনে পৌঁছানোর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো চাল গায়েব হয়ে থাকে বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক