দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, প্রান্তিক অঞ্চলের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং পাঠদান কার্যক্রমে নজরদারির অভাবের কারণেই এমন বিপর্যয়কর ফলাফল বারবার উঠে আসছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতেও এই অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার স্থায়ী কোনো রূপরেখা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলাফল বিপর্যয়ের এই ঘটনা কেবল কুড়িগ্রাম জেলার জন্য নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই এক বড় অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন এই কলেজগুলোর ফলাফল শূন্য হলো, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদেরা।
অন্যদিকে, রাজনীতি ও জাতীয় অঙ্গনেও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবষ্টায় যে লুটপাট ও দলীয়করণ হয়েছিল, তার দীর্ঘমেয়াদী কুফল হিসেবে মফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসের মুখে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক