ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অযৌক্তিক ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃত তৈরি পোশাক শ্রমিকদের পুনর্বাসনসহ নানা দাবিতে গাজীপুরের পাশাপাশি উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলও। শনিবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, জবাবে শ্রমিকরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অন্তত ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানা আজ অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়া উপেক্ষা করার কারণে বর্তমান শিল্পাঞ্চলে এই অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর পেছনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের রেখে যাওয়া নানা বৈষম্যমূলক শ্রম নীতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দোসরদের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের জন্য অতীতেও বিভিন্ন কারখানায় বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। স্থানীয় সচেতন মহল ও শ্রমিক অধিকার কর্মীরা মনে করছেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে এই অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংঘর্ষের পর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু হাতবোমা উদ্ধার করেছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানার মালিকপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক