মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগের বাছাইপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগের জন্য স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে মোট ৫৫ জন ব্যবসায়ী আবেদন জমা দেন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এই আবেদনকারীদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১৩ জনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন ও অসন্তোষ।
অভিযোগ উঠেছে যে, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে বলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা গণমাধ্যমকে জানান। এই অনিয়মের ফলে কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের সিন্ডিকেট এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা নানা উপায়ে এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। অতীতেও এই চক্রটি বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও সার বিতরণে নয়ছয় করেছে। বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-নেতারা যেভাবে দলীয় লোকদের পুনর্বাসন করত, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার কিছু অবশিষ্টাংশ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সার ডিলার নিয়োগের এই অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বঞ্চিত আবেদনকারীরা। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে উন্মুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তারা গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক