ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশের সাধারণ নির্বাচন পেছানোর একটি সুদূরপ্রসারী ও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সম্প্রতি ইরানে সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেই ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রশাসনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। গণমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এই অতি স্পর্শকাতর ও কৌশলগত ইস্যুতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’আল জামিরের সঙ্গে নেতানিয়াহু এক নজিরবিহীন ও তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ঘটনা এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার নানা কূটকৌশলের অভিযোগ রয়েছে। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার এই প্রচেষ্টাকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের অনেকেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থা এড়াতে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নির্বাচন বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও বেশি হুমকিতে ফেলতে পারত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর ভেতরের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার এই অনাস্থা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যদিও এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও এর পেছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে দেখা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক