সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্কে প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ও নীতিবিশেষজ্ঞদের এক মিশ্র সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এই জটিল সমীকরণের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখাও পরিবর্তিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসের ক্ষমতা ভারসাম্য পরিবর্তন হলে পাকিস্তানের সাথে ওয়াশিংটনের কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতিতে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এসেছে বড় ধরণের পরিবর্তন। পাশাপাশি ভারতের সাথে মার্কিন সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করছে।
নিউইয়র্কের ওই সমাবেশে এস জয়শঙ্কর যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা মূলত বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের জটিলতাকেই তুলে ধরে। ওয়াশিংটন যখন চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিহত করতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের মিত্রদের খুঁজছে, তখন পাকিস্তান এবং ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের রায় হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণে এবং কংগ্রেসের আইন প্রণয়নে গভীর প্রভাব ফেলবে। এর ফলে শুধু ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্কই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক