অটোরিকশার ভাড়া ১০০ টাকা, অথচ লাউ বিক্রি করে আয় ১২০ টাকা। পরিবহন খরচ বাদে হাতে থাকে মাত্র ২০ টাকা। এমন শোচনীয় লোকসানের মুখে পড়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে আটোয়ারীর স্থানীয় লাউচাষি কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, এমনটা আগে জানলে লাউ বাজারে বিক্রি করার জন্য আনতামই না। শুধু কাদের একা নন, তার মতো এই জনপদের বহু কৃষক চলতি মৌসুমে লাউয়ের বাম্পার ফলন পেয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন। বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তাদের মাথায় হাত উঠেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো সার ও বীজ পাওয়ায় এবার আটোয়ারী অঞ্চলে লাউয়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জমির পর জমি সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছিল, যা দেখে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক লেগেছিল। কিন্তু সেই সোনালী হাসি এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। বাজারে ক্রেতা সংকট এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে পাইকারি বাজারে লাউয়ের দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমান বাজারে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চার হালি বা পাইকারি হিসেবে প্রতিটি লাউয়ের দাম মোটে ২৫ পয়সা থেকে শুরু করে ১ টাকায় নেমে এসেছে।
উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ক্ষেত থেকে বাজারে লাউ আনার ভ্যান বা অটোরিকশার ভাড়াই উঠছে না কৃষকদের। অনেক কৃষক খেত থেকে লাউ তুলে বাজারে না এনে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন কিংবা ক্ষেতেই পচিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন দুরবস্থায় কৃষকরা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তুকি এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের জোর দাবি তুলেছেন যাতে ভবিষ্যতে তাদের এই ধরনের মর্মান্তিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক