চট্টগ্রামের রাউজানে এক অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর আরেক গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত এই জনপদে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের অনুসারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপরাধী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর একটি অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
গত কয়েকদিন ধরে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় এই দুই সন্ত্রাসীর অনুসারীরা গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তথ্য মিলেছে। তাদের সশস্ত্র মহড়ার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানান, বিগত বছরগুলোতে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের প্রভাবে এই বাহিনীগুলো খুন ও গুমের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করলেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেও আলম ও আজিজ বাহিনীর মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে, যা রাউজানের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে রাউজানে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত জানে আলম ও মোহাম্মদ আজিজের মতো দুর্ধর্ষ অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হবে, ততদিন রাউজাবাসী মুক্তভাবে বসবাস করতে পারবে না। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের কঠোরহস্তে দমন করতে যৌথ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুতই এই সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক