বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার একসময়ের অতি দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন এলেও এখানকার জনজীবন এখনো নানা মৌলিক সংকটে জর্জরিত। কুরুকপাতা বাজার ও পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সড়ক তৈরি হলেও সড়ক যেখানে শেষ, সেখান থেকেই মূলত শুরু হয় পাহাড়িদের জীবনের চরম দুর্ভোগ। যোগাযোগ ব্যবস্থার সামান্য উন্নয়ন হলেও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা না থাকায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এই জনপদ। আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই এলাকার মানুষ আজও আলোর মুখ দেখেনি। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, তেমনি থমকে আছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চাকা। এছাড়া চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা এখানকার মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। সামান্য অসুস্থ হলেও রোগীকে চিকিৎসার জন্য পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ, যা অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষার দিক থেকেও চরম পিছিয়ে রয়েছে কুরুকপাতা ইউনিয়ন। এলাকায় মাধ্যমিক স্তরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরেই পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করা দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কুরুকপাতায় বিদ্যুৎ, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক