নিজের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশিষ্ট নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। শনিবার ৩ অক্টোবর বিমানবন্দর থানার একটি মামলায় তাকে আদালতে তোলা হলে তিনি এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বিচারালয়ের সামনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকে জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের জন্য অস্ত্র ধারণ করার পরও আজ তাকে এই অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
মেজর আখতারুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আর আজ আমারই স্বাধীন দেশে আমার হাতে হাতকড়া এবং মাথায় হেলমেট পরানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক একটি অধ্যায়। জামায়াতে ইসলামীর এই নেতার এমন বক্তব্যে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার মুক্তির দাবিতে এবং এই ধরনের হয়রানিমূলক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অতিউৎসাহী ভূমিকা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মেজর আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের চক্রান্তে এখনো তার রেশ বজায় রয়েছে। দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উচিত এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক