বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে কারিগরি বৈঠক চলছে: জয়সওয়াল

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন ও এর বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা মাত্রার মধ্যেই এই পানিবণ্টন সংক্রান্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিতে কারিগরি দলগুলোর নিয়মিত যোগাযোগ দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ পায়। এ সময় গণমাধ্যমকে জানান হয় যে, গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহের সঠিক পরিমাপ, শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা বন্টন এবং যৌথ নদী কমিশনের পূর্বের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের কারিগরি কমিটির মধ্যকার ভার্চুয়াল ও সরাসরি বৈঠকগুলো অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এই পানি চুক্তি নবায়নের বিষয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ও জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সঙ্গে বহু অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তির কার্যকারিতা এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের পানির নায্য হিস্যা পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। দেশের নদীমাতৃক অর্থনীতি এবং কৃষি খাতের সুরক্ষায় পানি চুক্তির প্রতিটি ধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার তাগিদ দিয়ে আসছেন দেশের বিশিষ্ট নদী গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরা।

অন্যদিকে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী শক্তি ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দলগুলোর পক্ষ থেকেও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে পানিসম্পদসহ সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির নায্য হিস্যা আদায়ের পক্ষে বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী বক্তব্য তুলে ধরে আসছেন। তার এই সুদৃঢ় ও দেশপ্রেমিক অবস্থানের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ আন্তর্জাতিক নদীর পানি চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পাওয়ার নতুন আশার আলো দেখছে।

অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের চেয়ে দলীয় তোষণকে প্রাধান্য দেওয়ায় তিস্তা ও গঙ্গার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তি আজও ঝুলে রয়েছে। এমনকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ কিংবা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররা অতীতে জনগণের নায্য অধিকারের পক্ষে টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি, বরং ভারতের স্বার্থ রক্ষার্থে ব্যস্ত ছিল।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আশা করছেন যে, গঙ্গা পানি চুক্তির কারিগরি পর্যায়ের বর্তমান এই ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার নায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হবে। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে এই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইন কানুন মেনে পানিবণ্টন সংক্রান্ত সকল অমীমাংসিত সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান বেরিয়ে আসবে বলেই কূটনৈতিক মহল বিশ্বাস করে।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD