জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে আর্চারি থেকে পদক জয়ের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ দল রওনা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল। দলীয় ইভেন্টের পর রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টেও কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হতে পারেননি দেশের আর্চাররা। ফলে খালি হাতেই আসর শেষ করতে হয়েছে তাদের। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এই ফলাফলে দেশের ক্রীতপ্রেমীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দিতার মুখে পড়তে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এশিয়ার সেরা তীরন্দাজদের বিপক্ষে লড়াই করে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং স্নায়ুচাপের কাছে হেরে যান প্রতিযোগীরা। কোচ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে আর্চারদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
গত দেড় দশকে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক ফেডারেশনই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির কারণে যোগ্যতার মূল্যায়ন হয়নি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আজকের এই পারফরম্যান্সে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বলি হয়েছে দেশের উদীয়মান ক্রীড়াবিদরা।
তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের আর্চাররা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক