নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতার চিত্র কেবল স্বামীর বাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিধি আরও বিস্তৃত। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক alarming তথ্য, যেখানে দেখা গেছে প্রায় ৬৮ শতাংশ নারী তাদের জন্মদাতা বাবা কিংবা বাবার বাড়িতেও নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। শৈশব থেকেই মেয়েদের চলাফেরা, পোশাক-আশাক এবং বন্ধুর বাড়িতে যাতায়াতের ওপর কঠোর নজরদারি ও পারিবারিক নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে এই সহিংসতার সূচনা ঘটে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার শেকড় এতই গভীরে প্রোথিত যে, নারীর নিরাপত্তা কেবল বৈবাহিক সম্পর্কের গণ্ডিতেই হুমকিতে থাকে তা নয়, বরং জন্মসূত্রে পাওয়া পরিবারেও তারা সমানভাবে অরক্ষিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক কাঠামোর ভেতরে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এই সহিংসতার মূল কারণ। শৈশব থেকেই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে লালন-পালনে যে ভেদাভেদ তৈরি করা হয়, তা পরবর্তীতে সহিংসতার পথকে সুগম করে। গবেষণার এই তথ্যগুলো সমাজের প্রচলিত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে যেখানে মনে করা হয় যে নারীরা কেবল শ্বশুরবাড়িতেই নির্যাতিত হন। বাবার বাড়িতে নারীর এই নিরাপত্তাহীনতা আমাদের সামগ্রিক সামাজিক ব্যবস্থার চরম অবক্ষয় এবং নারী সুরক্ষার নীতিগুলোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সামাজিক মানসিকতার গভীর পরিবর্তন। পরিবার থেকেই যদি নারী ও পুরুষের সমমর্যাদা নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই সহিংসতার চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। গণমাধ্যমকে জানান গবেষকরা, নারীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পারিবারিক সহিংসতার প্রতিটি স্তর নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে নারী তার নিজ গৃহেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সম্মান পেতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক