জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন গণবর্জন ও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে যখন ইসরাইলি নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোসহ অধিকাংশ মুসলিম ও আরব রাষ্ট্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করলেও নিজ আসনে বসে তার বক্তব্য শুনেছে দুই মুসলিম দেশ বাহরাইন ও মরক্কো।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দেশের এমন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পাল্টে যাওয়া ভূরাজনীতির এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। অতীতে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে অবিচল অবস্থান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসহ বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কিছু আরব দেশ। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বাহরাইন ও মরক্কোর প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট না করার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো, বৈশ্বিক কূটনীতিতে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার্থেই এই দুই দেশ নেতানিয়াহুর বক্তব্য সরাসরি শোনার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও তাদের এই অবস্থান ফিলিস্তিনিপন্থী সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের ওই অধিবেশনে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা যখন ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে একে একে কক্ষ ত্যাগ করছিলেন, তখন এই দুই দেশের নীরব উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণের ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক