প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় অত্যন্ত ওজস্বী ও দিকনির্দেশনা মূলক ভাষণ প্রদান করেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বিশ্বশান্তি, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার রক্ষায় দেশের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর এই ভাষণে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
মাননীয় সভাপতি,
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এমন এক সময়ে বিশ্বমঞ্চের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যখন দেশটি একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আন্তর্জাতিক সহযোগী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় আমরা বারবার ব্যক্ত করেছি।
এর আগে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করেছে। কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল এবং লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ঐতিহাসিক বিপ্লব সাধন করেছে। সেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে আজ গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ব্রতী হয়েছে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈশ্বিক সংকট নিরসনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বনেতৃবৃন্দকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক