সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি প্রহসনমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শুক্রবার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে। মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অন্য কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে বর্তমান প্রশাসন। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও এমন দলীয়করণের নজির দেখা গেছে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাস্তরকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড গড়ার প্রথম সোপান।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামের সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হেঁটে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের অজুহাতে এভাবে হাজার হাজার তরুণের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিরোধীদলীয় এই শীর্ষ নেতা অবিলম্বে এই ভেরিফিকেশন প্রথার নামে চলা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বঞ্চিত মেধাবী তরুণদের অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল বা নিয়োগ দেওয়ার জোরালো দাবি জানান তিনি। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন নাহিদ ইসলাম। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক