দেশের দুর্গম উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নদীমাতৃক এই দেশের লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়েছে, বিশেষ করে উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে এই ভাসমান হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে তারা কাজের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটির কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সমৃদ্ধ এই ভাসমান হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংকটের সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা চরমভাবে অবহেলিত ছিল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ধরনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এমনকি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাট হলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় কাটিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইতিবাচক সহযোগিতায় এখন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপকূল ও চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাবঞ্চনা দূর করতে ‘স্বাস্থ্য তরী’ প্রকল্পটি এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। খুব দ্রুতই এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করে এটিকে নদীপথে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের দুর্গম এলাকার লাখ লাখ মানুষ বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন, যা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক