রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চিলাখাল স্কুল পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই ভাঙন দেখা দেয়, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করে। আকস্মিক এই ভাঙনের কারণে নদীর চরাঞ্চল ও তীরবর্তী জনপদের বহু মানুষ গভীর রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি সরাতে শুরু করেন। ক্ষতিগ্রস্ত এই অসহায় মানুষের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের খোঁজখবর নেন। তারা নদীভাঙনের কবলে পড়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন এবং দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান। রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে বিএনপির এই নেতৃবৃন্দ রাতেই স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যাতে ভাঙন রোধে অবিলম্বে বালুভর্তি বস্তা ফেলা বা জরুরি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিস্তা নদীর এই ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলেও এবার বর্ষার আগেই আকস্মিক ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের আঁধারে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে উপজেলা বিএনপির নেতাদের রাতের বেলা নদীপাড়ে উপস্থিতি দুর্গত মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে। নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের আইনি, সামাজিক ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দলগতভাবে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক