তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হোসেইন রয়ভারানের মতে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা একটি দীর্ঘদিনের অজুহাত মাত্র; কারণ তেহরান কখনোই এমন কোনো অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন নিষিদ্ধ করে ইরানে একটি ধর্মীয় অনুশাসন বা ফতোয়া রয়েছে, যা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি এবং দেশটির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত মিত্র ইসরাইলের তীব্র চাপের কারণেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতা বারবার ভেস্তে যায়। তেল আবিবের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতেই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ রুদ্ধ করছে।
এই পুরো পরিস্থিতির পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের এক জটিল সমীকরণ কাজ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে বারবার পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা বলা হলেও, পশ্চিমা শক্তিগুলো ইসরাইলের প্ররোচনায় তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার পরিবর্তে দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক