কারিগরি ত্রুটির কারণে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন হ্রাসের কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫৭ মেগাওয়াটে। গ্রীষ্মের এই সময়ে হঠাৎ করে এমন বিপর্যয় নেমে আসায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিকৃত বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সম্পাদিত বিতর্কিত ও একপাক্ষিক চুক্তিগুলোর কারণে দেশের জ্বালানি খাত আজ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উপনীত হয়েছে। সে সময়ের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে এসব অসম চুক্তি করা হয়েছিল, যার খেসারত আজ দেশের সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে।
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ এনে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদানির বন্ধ হওয়া ইউনিটটি সচল না হলে লোডশেডিংয়ের এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক