পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার লোকালয়ে তীব্রবেগে পানি ঢুকে পড়ায় এই দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এই বন্যায় স্থানীয় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহতভাবে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে চরাঞ্চল ও তীরবর্তী গ্রামগুলোর নিমাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই নদীর পানি রক্ষা বাঁধের নিচ দিয়ে এবং বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফসলি জমি।
পানিবন্দি মানুষেরা জানিয়েছেন, আকস্মিক এই বন্যায় তাদের ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নার চুলা জ্বালাতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাঁধের ওপর কিংবা উঁচু কোনো স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্গত এলাকার সাধারণ মানুষ।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানি এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক