নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষতি হতে উত্তরণে চলমান ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালের জনগণের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট প্রলয়করী বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ অনুদান পাঠানো হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সহায়তার অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দুর্গতদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বৈদেশিক নীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের হাত আরও প্রসারিত করেছে। এর আগে বিগত দিনেও যেকোনো আঞ্চলিক সংকটে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বর্তমান সরকারের এই সময়োপযোগী ও সহানুভূতিশীল পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণ বাংলাদেশের এই উদার সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের এই অবদান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক