পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় আট বছর আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রেজাউল ইসলাম (৩০)। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের উপার্জনের অর্থে নির্মাণ করেছিলেন স্বপ্নের বাড়ি, যা তাদের পরিবারের মুখে ফুটিয়েছিল স্বস্তির হাসি। কিন্তু সেই হাসি বেশি দিন টেকেনি। গত ২৫ দিন আগে প্রবাসের মাটিতে আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রেজাউল। দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে মৃত্যুর ২৫ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এসেছে তার নিথর দেহ।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজাউল ইসলাম ইরাকের একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছিলেন। গত মাসে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হয় বলে তার সাথে থাকা সহকর্মীরা জানিয়েছেন। এরপর থেকেই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বিমানযোগে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।
রেজাউলের মরদেহ পৌঁছানোর পর তার গ্রামের বাড়িতে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী, বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং অবুঝ সন্তানরা এখন দিশেহারা। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিবেশীরা শোকাহত পরিবারটির বাড়িতে ভিড় জমান এবং তাদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী জানাজা সম্পন্ন করে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। প্রবাসের মাটিতে জীবনযুদ্ধে হার মানা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক