চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে প্রথমে মারধর করে এবং পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসায় পাঠদানকালে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ধরনের একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং ভুক্তভোগীর অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে মাদরাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষকের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে স্থানীয় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসীর কবল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবকরা মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক