বিশ্ব শিক্ষক দিবসেও অন্য দিনের মতো সকালে মাদরাসায় এসেছেন তারা। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের খাতা দেখা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি—সবই চলছে নিয়মমাফিক। শুধু মাস শেষে বেতন-ভাতা পান না তারা। এভাবে এক-দুই বছর নয়, কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৩ বছর। শিক্ষকতা পেশার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তারা আজও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ এই সময়েও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি এই শিক্ষক-কর্মচারীদের।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর আলহুদা আলিম মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানান, বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও এমপিওভুক্তি বা সরকারি সহায়তার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা এক টাকাও সরকারি বেতন-ভাতা পাননি। অথচ সমাজের অন্ধকার দূর করতে তারা প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেন।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষকদের এই আত্মত্যাগ কেবল কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু যাদের হাত ধরে শিক্ষার্থীরা আলো পায়, সেই শিক্ষকরাই আজ অর্থকষ্টে জর্জরিত। বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির শিকার হয়ে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে থেকে যায়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার, তখন এই ১৮ শিক্ষক-কর্মচারীও তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চান। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিমালায় শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দীর্ঘ ৩৩ বছরের বঞ্চনার কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত করবে এবং তাদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক