শেরপুর সদর উপজেলায় চার মাসের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় রোকেয়া বেগম নামের এক গৃহবধূকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। মাদক কেনার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আপন ভাতিজা এই পৈশাচিক কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের মাতম শুরু হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন নিহতের নিজ ঘরে নিজের চার মাসের কোলের শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন রোকেয়া বেগম। এ সময় তার মাদকাসক্ত ভাতিজা আরিফুল ইসলাম এসে তার কাছে মাদক কেনার জন্য টাকা দাবি করে। গৃহবধূ রোকেয়া বেগম টাকা দিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই বখাটে। একপর্যায়ে ঘর থেকে ধারালো দা এনে অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং গলা কেটে নিশ্চিত মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পারিবারিক সূত্র ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে সাংবাদিকরা জানান, বখাটে আরিফুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত ছিল এবং এলাকায় মাদকের কারবারে লিপ্ত ছিল। টাকার জন্য সে প্রায়ই পরিবারের লোকজনের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। ঘটনার দিনও সেই ক্ষোভ থেকেই এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটায় সে।
খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনতা ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই নৃশংস হত্যাকাড়াণ্ডের সাথে জড়িত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার পেছনের অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক