জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে সরাসরি যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে সশরীরে যোগ দিতে পারছেন না ফিলিস্তিনের এই শীর্ষ নেতা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানান যে, মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও পক্ষপাতমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া থমকে আছে এবং গাজাসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে পাশ কাটানোর এটি ওয়াশিংটনের একটি সুদূর প্রসারিত কৌশলগত পদক্ষেপ। এর আগে শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা পরবর্তীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানেও নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মতো দলগুলো ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে এবং জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিলিস্তিনি নেতার অনুপস্থিতি ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের লড়াইকে বৈশ্বিক মঞ্চে কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক