কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিসিআইসি ডিলারের বিরুদ্ধে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের প্রতি বস্তা ইউরিয়া ও অন্যান্য সার সেখানে ১ হাজার ৭৩০ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই অনিয়ম ও চুরির প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে আজ রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা একত্রিত হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি বোরো ও আমন মৌসুমে সারের যখন তীব্র চাহিদা থাকে, ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। ডিলাররা গুদামে সার মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে তা বিক্রি করছেন। এর ফলে সাধারণ প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই একটি সিন্ডিকেট সার ব্যবসাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল এবং বর্তমানেও সেই চক্রের দোসররা সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
বিক্ষোভ চলাকালে কৃষকেরা দ্রুত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং এহেন লুটপাটের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে সারের দাম নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে এবং ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে রাজিবপুরে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক