সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গভীর আপত্তি জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জোরালো দাবি করেছেন যে, উক্ত বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং এটি দেশের কোটি কোটি তৌহিদি জনতা তথা সাধারণ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, দেশের একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো দাবি জানান এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলেছে। সেই ফ্যাসিস্ট সরকারের নানা অনিয়ম ও জনবিচ্ছিন্ন নীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা ছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও যদি ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য অব্যাহত থাকে, তবে তৌহিদি জনতা তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
এদিকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন একটি স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সংগ্রাম করা বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনগুলো দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সজাগ রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক