আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল টেরিতলায়। আমি ফিরে এসেছি। কিন্তু আমার বোন রশিদা, ভগ্নিপতি আমজাদ আর ভাই মহিউদ্দীন আর ফিরে আসেনি। ৫২ বছর আগের সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আতিয়ার রহমান বিশ্বাস। তৎকালীন জাসদ নেতা সিরাজ শিকদার হত্যার প্রতিবাদে এবং সরকারের নানা দমনপীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার সেই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটেছিল অসংখ্য গুম ও খুনের ঘটনা। তৎকালীন স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে গঠিত জাতীয় রক্ষীবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে স্বজন হারানোর অসীম বেদনা।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে বিরোধী মত দমনের অংশ হিসেবে বিনা বিচারে মানুষ তুলে নেওয়ার বহু নজির রয়েছে। আতিয়ার রহমানের মতো শত শত পরিবার আজও তাদের নিখোঁজ ভাই, বোন, স্বামী বা পিতার কোনো খোঁজ পায়নি। সেদিনের সেই নির্মমতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজও শিউরে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অথচ দীর্ঘ ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার বা সান্ত্বনার কোনো পথ উন্মুক্ত হয়নি এসব ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতীতের সেই কালরাত্রি ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়গুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং স্বজন হারানোর দীর্ঘশ্বাস এই পরিবারগুলোর নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক