পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার খবর পুরোপুরি অস্বীকার করেছে চীন। আগামী কয়েক মাসে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বেইজিং তাদের এই আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করল। বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনা সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা বা বৈঠকের বিষয়ে যে সমস্ত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন সর্বদা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে চলে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র এবং এর অবকাঠামো নিয়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারকরা পারমাণবিক অস্ত্রাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে চীনের তরফ থেকে এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করার পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং কার্যনির্বাহী ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম মূল ক্ষেত্র হলো এই পারমাণবিক শক্তি। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে বেইজিংয়ের নীতি কী হবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বরফ গলবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে কোনো আলোচনা হতে পারে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক