একসময় যেখানে শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখরিত ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, আজ সে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শুধুই নীরবতা। ধুলামাখা বেঞ্চে পড়ে আছে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা। দেয়ালে এখনো টাঙানো রয়েছে শিশুদের নানা স্মৃতি। দেখে মনে হয়, এই বুঝি আবার বই-খাতা হাতে ছুটে আসবে শিশুরা। কিন্তু শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার বেদনা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি চালুর পর থেকেই এলাকার কোমলমতি শিশুরা নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে জীবিকার তাগিদে তারা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়ছে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা মনে করেন, অবিলম্বে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে বিদ্যালয়টি পুনরায় সচল করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এলাকার শিশুদের মৌলিক শিক্ষাগ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং শিক্ষাবঞ্চনার শিকার হবে আগামী প্রজন্ম। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক