স্বামীর নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ঘটনার আগের দিন বাবার বাড়িতে ফিরেছিলেন চন্দনা রানী শীল। ২৬ বছর বয়সী এই গৃহবধূ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে সান্ত্বনা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে আশ্বস্ত করা হয় যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। পরিবারের এই আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে চন্দনা পরদিনই আবার ফিরে গিয়েছিলেন তার স্বামীর সংসারে। কিন্তু কে জানত, এই ফেরাটাই তার জীবনের শেষ অধ্যায় হতে চলেছে।
পরদিন সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি স্থানীয় কলাবাগান থেকে অত্যন্ত মর্মান্তিক অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারের সময় নিহতের হাত, পা ও গলা অত্যন্ত শক্তভাবে বাঁধা ছিল, যা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং নিহতের স্বজনরা এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্বামী অজয় দাসসহ মোট চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীদের ধরতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীর প্রতি এ ধরনের সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা আলোচনা চলছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নানা অপরাধমূলক ঘটনার মতো এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক