রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঐতিহ্যবাহী বেনারসি পল্লী কালের বিবর্তনে আজ মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময়ের জাঁকজমকপূর্ণ এই পল্লী এখন যেন কেবলই স্মৃতির পাতা, যেখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁতিদের বেঁচে থাকার জন্য। এই অঞ্চলের হস্তশিল্পের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং তাঁতিদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার সুফল মিলছে না বললেই চলে।
এই পল্লীর সার্বিক উন্নয়নে ও কারিগরদের কাজের সুবিধার্থে অতীতে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সুদৃশ্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে সেই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটিও আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে, দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে এটি অসামাজিক কার্যকলাপে ব্যবহার হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এত বড় একটি সরকারি বিনিয়োগ এভাবে বেহাল পড়ে থাকলেও তা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, একসময় এই বেনারসি পল্লী তাঁতের খটখট শব্দে সবসময় মুখর থাকত। এখানকার কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি বেনারসি শাড়ি ও অন্যান্য বস্ত্রের চাহিদা ছিল দেশজুড়ে। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতির আগ্রাসন, পুঁজির অভাব, সুতা ও উপকরণের চড়া দাম এবং সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন শত শত তাঁতি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপ, সহজ শর্তে ঋণ এবং এই পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কার করে কারিগরদের ব্যবহারের উপযোগী করা গেলে গঙ্গাচড়ার বেনারসি পল্লী তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক