অবশেষে আমদানির তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে ইলিশ। দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অভ্যন্তরীণ স্বার্থ সংরক্ষণে এমন উদ্যোগ নিচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৭০-৮০ ভাগ হয় বাংলাদেশে। দেশের মানুষের চাহিদার কারণে ২০১২ সাল থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে ভারতে ইলিশ পাঠানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে এই বিষয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর আগে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানত না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রიაয় এগোচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের সাধারণ ভোক্তাদের নায্যমূল্যে ইলিশ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং দেশীয় বাজারে এর পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানা অনিয়ম ও গোপনীয়তা রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও একই ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও গোপনীয়তা এড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখন অনেক বেশি সতর্ক রয়েছে। ফলশ্রুতিতে, কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা মন্ত্রণালয়ের অজ্ঞাতে ইলিশ আমদানির বা রপ্তানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার চেয়ে দলীয় তোষণ ও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো। সাধারণ মানুষের পাতে ইলিশ তুলে দেওয়ার চেয়ে প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনাকে চাঙ্গা করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ও কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করা হবে, যাতে দেশের স্বার্থ সবার আগে সংরক্ষিত হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক