বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তির আওতায় মোট ১১টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক রুটে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই মূলত এই বড় পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বাণিজ্যিক চুক্তিটি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই চুক্তিটিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি এই বাণিজ্যিক লেনদেন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন, যা বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট এবং কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সেই আমলের বিভিন্ন বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বরাবরই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বোয়িংয়ের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত এই উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তিটি দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত দূরদর্শী প্রমাণিত হতে পারে। তবে চুক্তির প্রতিটি শর্ত অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি, যাতে দেশের জনগণের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক