মৌলভীবাজার জেলায় গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আগাম ও রবি মৌসুমে টমেটো চাষ করে দারুণভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক ফলন হলেও টমেটো চাষে এক অন্যরকম বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এই জেলার উৎপাদিত টমেটো এবং এর বিশেষ গ্রাফটিং চারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মাটি ও আবহাওয়া টমেটো চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই এর পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয় জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়। এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকরা পরম যত্নে গ্রাফটিং চারা তৈরি ও রোপণ করেন। এই বিশেষ পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় ফলনও হয় বাম্পার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে চারা ও পাকা টমেটো সংগ্রহ করে নিয়ে যান। উৎপাদিত এই চারা ও টমেটো বিক্রির মাধ্যমে মৌলভীবাজারের অর্থনীতিতে কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে, যা কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে এত সফলতার মধ্যেও কৃষকদের মনে রয়েছে নানা ক্ষোভ ও হতাশা। তাদের অভিযোগ, সম্ভাবনাময় এই টমেটো চাষে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা বা পরামর্শ মিলছে না। সময়মতো আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি বা সার-বীজের সহায়তা পেলে এই খাতের উৎপাদন আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হতো। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে অনেক কৃষক এই চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ এবং সরকারি প্রণোদনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে কৃষকরা গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক