মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের চার নেতা দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগকারী নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, দলের চরম দুর্দিনে বা বিপদে পড়ার সময় পাশে কাউকে পাওয়া যায় না, যা তাদের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
পদত্যাগকারী চার নেতার অনুসরণে ওই এলাকার প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকেই এই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিবচরের এই ঘটনাটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তৃণমূল রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটে যে ধস নেমেছে, ভান্ডারিকান্দির এই ঘটনা তারই একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আগামী দিনে দলটির অভ্যন্তরীণ এই ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক