নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, দুর্যোগের দীর্ঘ ১০ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও ৫ হাজার ৫৩১ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গত শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড় ধসের কারণে বহু গ্রাম যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
এই আঞ্চলিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুধু নেপালকেই নয়, বরং তিব্বতের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবেই এ ধরনের অস্বাভাবিক এবং ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক