প্রতিবেশীর দায়িত্ব কেবল ক্ষমতাচ্যুত কোনো শাসককে আশ্রয় দেওয়া নয়, বরং প্রতিবেশী দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বকেও সমানভাবে সম্মান করা—এমন জোরালো মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় এই মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যখন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়, তখন বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশীর দায়িত্ব ও নৈতিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—সেই প্রশ্ন আজ দেশবাসীর মনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত হত্যা বন্ধের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তখনই অর্থবহ হয়, যখন তারা এ দেশের জনগণের জীবন ও অধিকারের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো নতুন এক মোড় নিয়েছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের জনগণ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রত্যাশা করছে, যেখানে সীমান্ত হত্যা কিংবা ভিনদেশি আগ্রাসনের কোনো স্থান থাকবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিটি আজ জাতীয় রাজনীতির একটি অন্যতম প্রধান এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে দেশের সীমান্তে বারবার রক্ত ঝরেছে। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ আর কোনো ধরনের অবিচার বা আগ্রাসন মেনে নেবে না। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক