ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা টেলিভিশনে সরাসরি দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। ১৯৯২ সালের সেই মর্মান্তিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা তাকে তীব্রভাবে উপলব্ধি করিয়েছিল যে, ভারতের বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষায় আগামী দিনে এক দীর্ঘ এবং কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে দেশকে। সম্প্রতি প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের এই সংবেদনশীল স্মৃতির কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর হিন্দু করসেবকদের দ্বারা বাবরি মসজিদ ভাঙার বিষয়টি ভারতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট দূরবর্তী প্রভাব ফেলেছিল। সেই সময় পর্দার অন্তরালে থাকা সোনিয়া গান্ধী যেভাবে এই ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়েছিলেন, তা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শনের ওপর এক গভীর ছাপ ফেলেছিল। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষার রাজনীতিতে নিয়মিত নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এই সাক্ষাৎকারে তার সেই পুরনো স্মৃতির রোমন্থন ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ নিয়ে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে।
এদিকে সোনিয়া গান্ধীর এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাষণে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে যে, কংগ্রেস দলের মূল মানসিকতা বরাবরই তোষণনির্ভর। সোনিয়া গান্ধীর এই কান্নার বিষয়টি সামনে এনে বিজেপি শিবির অভিযোগ তুলেছে যে, তাদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এবং আদর্শের কেন্দ্রে সব সময়ই সংখ্যালঘু তোষণ ও বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব কাজ করে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন বিভিন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পুরনো ঐতিহাসিক ইস্যুটিকে নতুন করে উসকে দিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও শক্তপোক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি