ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। রাজনৈতিক ছত্রছায়াহীন সাধারণ নাগরিক হওয়ার কারণেই বাঁধন এমন সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি ইউরোপের দেশ ইতালিতে এই অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। এই ঘটনার পর থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গণমাধ্যমকে জানান দীপ্তি চৌধুরী, একজন শিল্পীকে এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় সাধারণ নাগরিকদের বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দীপ্তি চৌধুরী এই ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে এবং বর্তমানেও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মতো দলগুলোর সক্রিয় উপস্থিতিতে এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের পথ সুগম হচ্ছে। এমন একটি সময়ে বিদেশেও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা করার বিষয়টি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি বাকস্বাধীনতা এবং একজন শিল্পীর মর্যাদার ওপর আঘাত। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সচেতন নাগরিক ও শিল্পীরা একত্রিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা অবিলম্বে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রবাসে অবস্থানরত কোনো নাগরিক বা শিল্পী এ ধরনের অপমানজনক আচরণের শিকার না হন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক