পটুয়াখালীর মহিপুরে মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও কুড়ি দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম হুবহু মিলে যাওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে মারাত্মক ভুল হয়েছিল, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ এই নাগরিককে। অথচ একটু সতর্ক হলেই এই অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৃত আসামি এবং ভুলবশত গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম ও অন্যান্য পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখেনি। আদালতের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগী মুক্তি পান। এ ধরনের বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা ও পুলিশি ভুলের কারণে সাধারণ মানুষের হয়রানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের নাম বিভ্রাটের কারণে নিরপরাধ মানুষের কারাবাসের ঘটনা বারবার ঘটছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ভুক্তভোগী পরিবার গণমাধ্যমকে জানান, কোনো অপরাধের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল নামের মিলের কারণে একজন মানুষকে বিনা অপরাধে কুড়িটি দিন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটাতে হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ভুল আর কোনো নিরপরাধ মানুষের জীবনে নেমে না আসে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক