১৭৪৯ সালের এক গ্রীষ্মের দিনে প্যারিসের রাস্তায় হাঁটছিলেন ফরাসি দার্শনিক জ্যঁ জাক রুশো। হঠাৎ তার চোখে পড়ে দিজোঁ একাডেমির একটি প্রশ্ন—বিজ্ঞান ও শিল্পকলার অগ্রগতি কি মানুষের নৈতিকতাকে পরিশুদ্ধ ও উন্নত করেছে? সাধারণ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতার প্রশ্ন হলেও রুশোর কাছে এটি হয়ে উঠেছিল গভীর আত্মোপলব্ধির বিষয়। তিনি গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন বর্তমান আধুনিক সভ্যতার গতিপ্রকৃতি নিয়ে।
বর্তমান যুগেও এই প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে মানবজীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি এর নৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা বিতর্ক। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলেও অনেক সময় মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে নৈতিকতার শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কেবল বৈজ্ঞানিক বা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে না, যদি না তার সাথে নৈতিক মূল্যবোধের সঠিক চর্চা থাকে। ভবিষ্যতে মানবসমাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তি এবং নৈতিকতার সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করার কোনো বিকল্প নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক