সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, যান্ত্রিক জীবন এবং নানা ধরনের মানসিক চাপ কিংবা মন খারাপের মুহূর্তে প্রিয় মানুষের একটি আন্তরিক আলিঙ্গন এনে দিতে পারে এক অপূর্ব প্রশান্তি। কাছের কেউ দুহাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরলে মনের গভীরের অস্থিরতা অনেকটাই কমে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, শারীরিক স্পর্শ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিজ্ঞানীদের মতে, যখন কোনো মানুষ তার প্রিয়জনকে স্পর্শ করে বা আলিঙ্গন করে, তখন মানবদেহে অক্সিটোসিন নামক একটি বিশেষ হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। এই হরমোনটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে লাভ হরমোন বা সুখের হরমোন হিসেবে অভিহিত করা হয়। অক্সিটোসিন মানুষের মনকে শান্ত করতে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধনকে দৃঢ় করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি, এটি শরীর থেকে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়, যা সরাসরি মানসিক চাপ দূর করতে কাজ করে।
আধুনিক সমাজে কাজের চাপ এবং নানামুখী উদ্বেগের কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য প্রায়শই হুমকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ওষুধ বা অন্যান্য কৃত্রিম উপায়ের চেয়ে প্রাকৃতিক ও মানবিক বন্ধন অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রিয়জনের সান্নিধ্য, হাত ধরে হাঁটা বা কোলাকুলি করার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
তাই দৈনন্দিন জীবনের হাজারো ব্যস্ততা এবং হতাশার মাঝেও পরিবার, বন্ধু কিংবা জীবনসঙ্গীর জন্য একটু সময় বের করা এবং তাদের ভালোবাসার স্পর্শে থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল মন ভালো রাখতেই সাহায্য করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক