যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দেশজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে মুসলিম প্রার্থীদের ঘিরে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় বিদ্বেষের বিষয়টি সামনে চলে আসায় দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের আক্রমণ করতে গিয়ে অনেক সময় ধর্মীয় পরিচয়কে হাতিয়ার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন রাজনীতিতে এই ধরনের মেরুকরণ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন জনসভায় প্রার্থীরা একে অপরকে ঘায়েল করতে যে ভাষা ব্যবহার করছেন, তা সাধারণ মানুষের মনে বিভেদ তৈরি করছে। বিশেষ করে মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত ভোটাররা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভোটকেন্দ্র এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
এদিকে, নাগরিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতারা সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য থেকে বিরত থাকেন। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সবার সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সমাজে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হবে। সাধারণ ভোটাররাও আশা প্রকাশ করেছেন যে, সকল প্রীতি ও সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রেখে মার্কিন নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক