রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরীকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তাকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নতুন কর্মস্থলে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিন ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অভিযুক্ত ওই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
সাংবাদিকদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানা অজুহাতে উৎকোচ গ্রহণ করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরী। এই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তোলেন, সরকারি দপ্তরে যদি এভাবে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন চলে, তবে সাধারণ নাগরিকরা কোথায় যাবেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার স্বার্থে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয় বিভিন্ন মহл থেকে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তাকে কালুখালী থেকে সরিয়ে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বদলি করা হলো। তবে শুধু বদলিই নয়, বরং এই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম রোধে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক